সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় বসতঘরে একা পেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা (৪৯) বাদী হয়ে গত সোমবার (৮ জুন) ধর্মপাশা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাঁর মা বাড়িতে ছিলেন না। এই সুযোগে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘুলুয়া গ্রামের ফজলু খানের ছেলে কাউছার মিয়া (২৫) অসৎ উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রীর বসত ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে একা পেয়ে কাউছার তাকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ওই ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত কাউছার মিয়া দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মা জানান, ঘটনার পরদিন (৭ জুন) তিনি বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন। পরদিন ৮ জুন স্থানীয় এক নারীকে সাথে নিয়ে অভিযুক্ত কাউছারের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা ফজলু খান ও মা সুলেমা বেগমের কাছে ঘটনার সুবিচার চান। কিন্তু তারা বিষয়টিতে কর্ণপাত না করে উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হত্যার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে ৮জুন এ নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী জানান, ঘটনার সময় মেয়েটির চিৎকার শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি, ওই ছাত্রীটির বসত ঘর থেকে বের হয়ে কাউছার দৌঁড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে মেয়েটির থেকে পুরো ঘটনাটি শুনি। আমি এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাউছার মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও নাম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কাউছারের আপন চাচাতো ভাই প্রিন্স ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বলেন আমরা বিষয়টি সামাজিক ভাবে বসে শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মপাশা থানার (ওসি তদন্ত) ইমাম হোসেন বলেন , "এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশের সময়: ০৯ জুন ২০২৬