দৈনিক ধর্মপাশার খবর

সুনামগঞ্জ পৌর শহরে অভিনব কৌশলে মদ বিক্রির অভিযোগ, অতিষ্ঠ পাড়া-মহল্লার মানুষ



সুনামগঞ্জ পৌর শহরে অভিনব কৌশলে মদ বিক্রির অভিযোগ, অতিষ্ঠ পাড়া-মহল্লার মানুষ

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অভিনব কৌশলে ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে দেশীয় চোলাই ও বাংলা মদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবারিরা এখন আর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বসে মদ বিক্রি করছে না। বরং মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে রিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা সাধারণ পথচারীর বেশে শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে মদ পৌঁছে দিচ্ছে। এতে বাইরে থেকে তাদের সাধারণ মানুষ মনে হলেও, ভেতরে চলছে অবৈধ মাদক সরবরাহের কার্যক্রম।

পৌর শহরের জামাইপাড়ার বাসিন্দা শাহিদুর রহমান বলেন, “প্রতিদিনই গণমাধ্যমে দেখি পুলিশ, র‍্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করছে। কিন্তু এর মধ্যেও কীভাবে শহরে অভিনব উপায়ে মদ বিক্রি হচ্ছে, তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, পাড়া-মহল্লায় ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে চোলাই মদ বিক্রি তরুণ ও যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, নেশার টাকা জোগাড় করতে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়তে পারে। এতে পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবকদের মধ্যে এই মদের প্রতি আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, মাঝে মাঝে দু-একজন খুচরা বিক্রেতা বা সেবনকারী ধরা পড়লেও মূল হোতারা বেশিরভাগ সময়ই আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

পৌর শহরের সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই ভ্রাম্যমাণ মদ বিক্রি বন্ধ এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কঠোর ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক ধর্মপাশার খবর

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুনামগঞ্জ পৌর শহরে অভিনব কৌশলে মদ বিক্রির অভিযোগ, অতিষ্ঠ পাড়া-মহল্লার মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অভিনব কৌশলে ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে দেশীয় চোলাই ও বাংলা মদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবারিরা এখন আর কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বসে মদ বিক্রি করছে না। বরং মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে রিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা সাধারণ পথচারীর বেশে শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে মদ পৌঁছে দিচ্ছে। এতে বাইরে থেকে তাদের সাধারণ মানুষ মনে হলেও, ভেতরে চলছে অবৈধ মাদক সরবরাহের কার্যক্রম।

পৌর শহরের জামাইপাড়ার বাসিন্দা শাহিদুর রহমান বলেন, “প্রতিদিনই গণমাধ্যমে দেখি পুলিশ, র‍্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করছে। কিন্তু এর মধ্যেও কীভাবে শহরে অভিনব উপায়ে মদ বিক্রি হচ্ছে, তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, পাড়া-মহল্লায় ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতে চোলাই মদ বিক্রি তরুণ ও যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, নেশার টাকা জোগাড় করতে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়তে পারে। এতে পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবকদের মধ্যে এই মদের প্রতি আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, মাঝে মাঝে দু-একজন খুচরা বিক্রেতা বা সেবনকারী ধরা পড়লেও মূল হোতারা বেশিরভাগ সময়ই আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

পৌর শহরের সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই ভ্রাম্যমাণ মদ বিক্রি বন্ধ এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কঠোর ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দৈনিক ধর্মপাশার খবর


কপিরাইট © ২০২৫ দৈনিক ধর্মপাশার খবর সর্বস্ব সংরক্ষিত